অদ্ভুত এক প্রাণী ক্যামেলিয়ন।

ক্যামেলিয়ন ধীরগতির এবং অলস একটি প্রাণী। এরা শিকারের খোঁজে বের হয় না। শিকার তাদের নাগালের ভেতর না আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করে। গাছের ডালে তারা স্থির হয়ে বসে থাকে। কারণ তাদের কোনো তাড়া নেই। পোকামাকড় ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেলিয়নকে দেখে না।

কারণ সে আশপাশের রংয়ের সঙ্গে তার রং মিশিয়ে ফেলে। সে নড়াচড়া না করলেও একটি পতঙ্গ তার সামনে আসলেই তা ক্যামেলিয়ন ঠিকই দেখতে পায়। পতঙ্গটি কাছে যায় এবং থেমে যায়। ক্যামেলিয়ন খুব দ্রুত তার আঠালো জিহ্বাটি ছুড়ে দিয়ে পোকাটিকে ধরে মুখে পুড়ে নেয়।

তারপর সে আগের মতো আবার অপেক্ষা করতে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে ক্যামেলিয়ন রং পরিবর্তন করে। কারণ, সে সুযোগ সন্ধানী। প্রয়োজন অনুসারে সে পরিবেশের সঙ্গে তার রং মিশিয়ে ফেলে। যখন-তখন সে তার গায়ের রং পরিবর্তন করে। প্রত্যেক পরিবর্তন তাকে আলাদা-আলাদাভাবে উপস্থাপন করে।

কিন্তু প্রকৃতিবিজ্ঞানীরা বলেন অন্য কথা। তাদের চামড়ার নিচে চলমান কণা আছে, যাদের রং সাদাটে, সঙ্গে হলুদ এবং কোনো কোনো সময় কালো বা বাদামি রং সংযুক্ত। তাদের শরীরে যখন আলো ও তাপের মতো শক্তিশালী প্রভাব পড়ে বা মনে ক্ষুধা ও ভয়ের প্রভাব পড়ে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রংয়ের কণাগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশে শরীরের রং পরিবেশের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে।

এটি একটি রংয়ের বিচিত্র মিশ্রণ। ছাই ধূসর থেকে বাদামি, কালো বা হলুদ। প্রকৃতপক্ষে এই রংয়ের খেলা খুবই অস্থিতিশীল। ক্যামেলিয়ন কি এ সমস্ত বিষয় জানে? সম্ভবত নয়। রং পরিবর্তন তার ইচ্ছায় হয় না। তবে সে যা তা প্রকৃতিই নির্ধারণ করেছে।

লিখেছেনঃ সাথী আক্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *