আফ্রিকার বিষধর সা

এদের নাম ব্লাক মাম্বা বা  কালো মাম্বা  এরা হচ্ছে (Dendroaspis polylepis) এলাপিড পরিবারভুক্ত এক প্রজাতির বিষধর সাপ। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়ংকর সাপ।

আফ্রিকার একটি বড় অঞ্চলজুড়ে এই সাপের বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। কালো মাম্বা দেখা যায় ইথিওপিয়া, কেনিয়া, বতসোয়ানা, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, মালাউই, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, এবং কঙ্গোতে।

এছাড়া সাভানা অঞ্চল, কাষ্ঠল বণাঞ্চল, এবং শিলাময় অঞ্চলে এদের দেখা যায়। এরা নিজেরা হুমকির সম্মুখীন হলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মারণঘাতী দংশন করতে দ্বিধা করে না।
আকৃতির দিক থেকে কালো মাম্বা আফ্রিকার সর্ব বৃহৎ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিষধর সাপ হিসেবে চিহ্নিত।

একটি পূর্ণ বয়স্ক কালো মাম্বার দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ২.৫ মিটার এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৩ মিটার হয়ে থাকে। কালো মাম্বা থেকে বড় পৃথিবীর একমাত্র প্রজাতির বিষধর সাপটির নাম শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা,যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাপ।

আর বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া এই সাপটির অন্যতম একটি এন্ডেমিক বাসস্থান হচ্ছে সুন্দরবন। অন্যান্য সরীসৃপের মতোই কালো মাম্বা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাহ্যিক তাপের ওপর নির্ভরশীল।

কালো মাম্বা নামটি একটি ভুল পথ নির্দেশনামূলক কারণ, সাপটির ত্বকের সত্যিকারের রং কালো নয়, বরং গাঢ় ধূসর জলপাই রংয়ের। যদিও জীবনের প্রথমভাগে এটিও থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সাপের ত্বকের রং গাঢ় হতে থাকে।

এদের নামের সাথে কালো বা কালো যুক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় এদের কুচকুচে কালো মুখকে। এদের মুখের ভেতরটা পুরোটা গাঢ় কালো রংয়ের। কালো মাম্বা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী সাপ হিসেবেও চিহ্নিত।

দাবী করা হয় এদের কিছু প্রজাতি ঘন্টায় ১৯.৫ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে পারে।
আফ্রিকা মহাদেশে এই সাপের প্রাদুর্ভাব এতো বেশী যে, হসপিটালে কোনো রোগি ভর্তি হলে প্রথমে ব্লাক মাম্বার এন্টি ভেনম দেওয়া হয়।

আমাদের বাস্তুসংস্থানে প্রত্যেকটা প্রানীর ভূমিকাই অপরিসীম,সুতরাং নিজেদের টিকে থাকার তাগিদে, জীবন সংশয় না হলে কোনো বন্য প্রানী হত্যা করবেন না, পারলে এদের বেঁচে থাকতে সহযোগিতা করুন।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া + অন্যান্য গ্রহন যোগ্য মাধ্যম।

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *