ইন্ডিয়ান ওয়াইল্ড ডগ

বন্য কুকুর শব্দটি সামনে আসলেই আমরা ধরে নেই, এর দ্বারা আফ্রিকান বন্য কুকুর উদ্দেশ্য করা হচ্ছে। যাদেরকে আমরা প্রায়ই টিভির পর্দায় দেখতে পাই। কিন্ত আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব এক প্রজাতির বন্য কুকুর রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানি না।

এরা ঢোল নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এদেরকে অনেকেই রামকুত্তা (কুকুর) নামে চিনে থাকে। আকারে এরা নেকড়ে এবং শিয়ালের মাঝামাঝি। লম্বায় ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার, লেজ ২০ থেকে ২৭ সেমি। পা খাটো, লেজ ঝাপালো ও নাকের ওপরের অংশ খানিকটা উচু৷  এরা আজ বিরল এবং বিপন্ন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

এরা IUCN এর রেড লিস্টে আছে। ধারণা করা হয় এরা এখন সন্তান প্রসবে সক্ষম এমন এই কুকুরের সংখ্যা রয়েছে ৯৪৯ থেকে ২২১৫ এর মধ্যে। যা সন্তান প্রসব করতে সক্ষম বাঘের থেকেও কম। এই প্রাণীটা এক অজানা কারণে দীর্ঘ দিন ধরে সায়েন্টিস্ট,  রিসার্চারদের আলোচনার বাহিরে রয়েছে।

এই শিকারি কুকুর কে আমরা ভুলতেই বসেছি। একদা এই প্রাণী বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, ও পার্ব্যত্য চট্টগ্রামে ঘুরে বেড়ালেও এদের দেখা পাওয়া ভার। সর্বশেষ গত বছর লাউয়াছড়া উদ্যানে কিছু স্থানীয় লোক এর দেখা পায়।

এই কুকুর তার শিকারি অভ্যেস মোতাবেক স্থানীয় লোকের গরু হত্যা করলে বিষয়টি নজরে আসে। এই কুকুর দলবেধে শিকার করতে পছন্দ করে। এরা বন্য শূকর, ছাগল, হরিণ, গরু, বন্য গরু সবকিছুই শিকার করতে সক্ষম।

বনিবনা না হলে এরা বাঘ, হাতি এদেরকেও অস্থির করে তোলে। ভারত, ভুটান, নেপাল, চীন সহ আরো কিছু রাষ্ট্রে এখনো এদের দেখা মিলে। কিন্ত বনভূমি উজাড় করা এবং বায়ো ডায়ভার্সেটি ক্রমাগত নষ্ট হওয়ার কারণে এরা এদের জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে।

লিখেছেনঃ Saowabullah Haque.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *