চিত্রিত আঁচিলা গেছো ব্যাঙ

প্রাণীটি বিরল প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির ব্যাঙ। নাম চিত্রিত আঁচিল ব্যাঙ বা শৈবাল আঁচিল ব্যাঙ খুবই বিরল প্রজাতির এই ব্যাঙের ইংরেজি নাম Pied warty frog এবং বৈজ্ঞানিক নাম Theloderma Asperum এই প্রজাতির ব্যাঙ দৈর্ঘ্যে মাত্র ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত থাকে। এরা আকারে আমাদের বুড়ো আঙুলের নখের সমান প্রায়।

বাংলাদেশের দুই প্রাণী গবেষক ২০০৭ সালে এই প্রজাতির ব্যাঙের নামকরণ করেন চিত্রিত আঁচিলা গেছো ব্যাঙ। আইইউসিএনের তথ্যানুসারে অবশ্য চিত্রিত আঁচিল ব্যাঙ বিপন্ন তালিকাভুক্ত নয়। তবে নানাভাবে পরিবেশ দূষণের কারণে এদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। এরা দিনের আলোতে লুকিয়ে থাকে। রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে শুধুই ছোট ছোট পোকা-মাকড।

যত প্রজাতির ব্যাঙ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যায তার মধ্যে এই চিত্রিত আঁচিল ব্যাঙ সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্রাকৃতি ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ভারতের মেঘালয়  অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়-অরণ্যে এদের দেখা মেলে। পানি দূষণ, চাষাবাদের জন্য ভূমির ব্যবহার, নগরায়ণ, ভূমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সর্বোপরি প্রাকৃতিক নানা প্রতিকূলতা যে হারে বাড়ছে তাতে নিশ্চিত করেই বলা যায়, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

এদের শরীরজুড়ে রয়েছে সাদা ও কালো রঙের বাহার। চোখের অংশ খানিকটা লাল। বন্য প্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী তানিয়া খান বাংলাদেশে প্রথম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এই ব্যাঙের সন্ধান পান। গাছের পাতার উপরে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন পাখির বিষ্ঠা। চোখ এড়িয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি জিনিস পড়ে আছে বাস্তবে এটি ক্ষুদ্র মেরুদণ্ডী প্রাণী হচ্ছে এরা। বরাবরই ওরা অদেখা বস্তুর মতো নীরবে মিশে থাকে প্রকৃতিতে। ক্ষুদ্রতম বলে স্বাভাবিকভাবে নজরেও আসে না। অণুবীক্ষণের চোখ নিয়ে খুঁজতে গেলেই ধরা পড়ে উপস্থিতিটা। তাও সব সময় না, কখনো-সখনো দেখা মেলে এদের।

লিখেছেনঃ বিশ্বজিৎ ভটাচার্য

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *