তাসমেনিয়ান ডেভিল বা তাসমেনিয়ার শয়তানেরা.

কোন প্রাণীর এরকম অদ্ভুত নাম হতে পারে তা শুনতে আশ্চর্য মনে হতে পারে। কিন্ত ইউরোপিয়ান সেটলাররা অস্ট্রেলিয়াতে যখন এই প্রাণীকে আবিষ্কার করে তখন এই প্রাণীটির বেখাপ্পা আচরণ এবং ভূতুড়ে ডাক শুনে তারা এই নামটিই দিয়ে বসে।  তাসমেনিয়ান ডেভিল  (Sarcophilus harrisii) হল এর আসল নাম।

এই  প্রাণী কে সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী থলিতে বহন কারী জীব হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। মানুষ প্রথমেই পরিচিত হয় এর পাগলাটে আচরণ দ্বারা। শিকারী পশুদের সাথে প্রচন্ডরকম ক্রোধ প্রদর্শন, মিলনের জন্য মহিলা ডেভিল কে দাতে দ্বারা কামড়িয়ে একরকম কিডন্যাপ করে নিয়ে আসা, এবং মিলনের জন্য অন্য পুরুষ ডেভিলের সাথে মারামারি করা, মহিলা ডেভিলের আবার পুরুষ ডেভিলের সাথে মিলন না করে পলায়ন করা ইত্যাদি কর্মকান্ড আপনাকে সত্যিকারার্থেই এক ঝগড়াটে এবং বেয়ারা জাতির কথা মনে করিয়ে দিবে।

অস্ট্রেলিয়ান এই প্রাণীর সাইজ ২০ থেকে ৩২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওজন নয় থেকে ছাব্বিশ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। এই প্রাণীর শরীরের তুলনায় তার মাথার সাইজ বড় যে কারণে এর রয়েছে তীক্ষ্ণ দাত এবং পেশিবহুল মাড়ি। এই মাড়ি দিয়ে যে কোন কিছু ভেঙ্গে গুড়ে খাওয়ার সক্ষমতা তাসমেনিয়ান ডেভিলের রয়েছে। এর কামড় কে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী কামড় হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এরা সাধারণত ছোট প্রাণী শিকার করতে অভ্যস্ত যেমনঃ সাপ, পাখি,মাছ, পোকামাকড় ইত্যাদি। রাত্রিকালীন এই জীবটি যখন কোন কিছু শিকার করে তখন কিছুই বাদ রাখে না তার পশম, নখ, দাত সবকিছু ভক্ষন করে নেয়।

একজন মা তাসমেনিয়ান ডেভিল ২০ থেকে ৩০ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। যেগুলো মায়ের থলির মধ্যেই থাকে। মায়ের নিপল মাত্র চারটা থাকার কারণে অল্প সংখ্যক বাচ্চাই টিকে থাকতে পারে।

একসময় এই জীবটি পুরো অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া গেলেও এখন শুধুমাত্র তাসমানিয়াতেই পাওয়া যায়। ১৯৯০ সাল থেকে এই প্রাণী এক ধরণের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়।  যার নাম দেওয়া হয় Devil facial tumor disease (DFTD). এই ক্যান্সারের কারণে ডেভিলের মুখ থেকে মাথা পর্যন্ত ফুলে যায়। তখন তাদের খাবার খেতে কষ্ট হয়। ধীরেধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।  একসময় মারা যায়। [১]

কিন্ত আশার ব্যাপার হল এই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব ইমিউনু সিস্টেম গড়ে উঠছে। যা সায়েন্টিস্টদের জন্য এই প্রাণীর ব্যাপারে আশার আলো দেখাচ্ছে। একটা সময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে এই প্রাণীটিকে আর টিকানো সম্ভব হবে না। কিন্ত এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। [২]

বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছে। তারা বের করেছে তাসমেনিয়ান ডেভিলের প্রাণঘাতী এই ক্যান্সারের প্রতিষেধক তাদের স্তন্যদুধের মধ্যেই রয়েছে। শুধুয়ামত্র তাই নয় এই দুধ মানুষের অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট বাগস এর সমাধানও এর মাঝে রয়েছে। তবে এর জন্য আমাদের আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। ভালো থাকুক মানুষ। ভালো থাকুক জগতের সব প্রাণীরা। [৩]

References:

[১]https://www.nationalgeographic.com/animals/mammals/t/tasmanian-devil/

[২]https://www.bbc.com/news/science-environment-47659640

[৩]https://www.theguardian.com/environment/2016/oct/18/tasmanian-devil-milk-could-kill-golden-staph-and-other-antibiotic-resistant-bugs

লিখেছেনঃ শাবুল্লাহ হক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *