দাঁড়াশ সাপ / Rat snake

দাঁড়াশ সাপ (English: Rat snake) Colubridae গোত্রের বিষহীন সাপ Coluber mucosus। এদের দেহের রং হালকা বাদামি বা হলুদ বাদামি কিংবা জলপাই বাদামি। সাপটিকে গোখরা সাপ বলে ভ্রম হতে পারে।

এ কারণে সাপটি মানুষের হাতে বেশি মারাও পড়ে। এদের মাথায় সাধারণত কোনো ফণা থাকে না এবং মাথা গোখরা সাপের মাথার তুলনায় বেশ সরু। লম্বায় সাধারণত দুই মিটার, তবে কোনো কোনোটি তিন মিটার বা ততোধিক লম্বা হতে পারে।

দাঁড়াশ সাপ গাছ বেয়ে উঠতে দক্ষ, সাঁতার কাটতে, ডুব দিয়ে থাকতে এবং দ্রুত ছুটতে পারে। ধরা পড়ার পর কিছুটা মারমুখি দেখালেও পরে খুব সহজেই পোষ মেনে যায়। ইঁদুর, ছুঁচো, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে দাঁড়াশ সাপ জীবনধারণ করে।

শিকার ধরামাত্রই গিলতে শুরু করে। দাঁড়াশ সাপ। বিভিন্ন অঞ্চলে কেবল এ সাপই ‘যুদ্ধ নাচ’ (combat dance) দেখায়। প্রতিদ্বন্দতী দুটি পুরুষ সাপের মধ্যে এ লড়াইয়ে এরা পরস্পর দেহের অর্ধেক রশির মতো পেঁচিয়ে মাটির সমান্তরালে অথবা কিছুটা উপরে থাকে।

গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ একে গোখরা ও দাঁড়াশের মধ্যে যৌনমিলনের দৃশ্য মনে করে। দাঁড়াশ প্রায় এক ডজন আঠালো ডিম পাড়ে এবং দুই মাসের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।স্ত্রী সাপ প্রায় দু’মাস ডিমের চারপাশে কুন্ডলী পাকিয়ে অবস্থান করে।

দাঁড়াশের লেজের কাটা;;কুসংস্কার আছে যে দাঁড়াশ সাপের লেজে কাটা থাকে, আর সেই কাটা শরীরে ফুটলে পচঁন ধরে। কিন্তু মূলত দাঁড়াশের লেজে কোনো কাটা থাকে না, যে টা দেখা যায় সেটা মূলত হোমো পেনিস, সব সাপেরই দুটি করে হোমোপেনিস থাকে, মেটিংয়ের সময় বা খুব বেশী আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেগুলো বেড়িয়ে আসে আর দাড়াশের হোমো পেনিস অপেক্ষাকৃত বড় হয় বলে চোখে পরে, আর মানুষজন সেটা দেখে কুসংস্কার ছড়ায়।

এদের চামড়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কোরিয়ান ও চীনারা দাঁড়াশ সাপের মাংস খেতে পছন্দ করে। (বিঃদ্রঃ জীবন সংশয় না হলে কোনো বন্যপ্রানী মারবেন না কারন আমাদের ইকোসিস্টেমে বন্যপ্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম। একটি সুন্দর আর নির্মল পৃথিবী রক্ষার্থে বন্যপ্রান রক্ষা করুন।) সোর্স;বাংলাপিডিয়া

তথ্যসুত্রঃ বাংলাপিডিয়া

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *