বিষধর সাপ লাল গলা ঢোড়া

এই সাপটি দেখতে যতটা আকর্ষণীয়, সাপ গবেষকদের কাছে এর আকর্ষণ আরো অনেক বেশি। এর কারণ হল, এখনো বিজ্ঞানীরা দ্বিধান্বিত যে, এটি কি বিষধর সাপ না অবিষধর সাপ।  এই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড আছে। এদের বাংলা নাম লাল গলা ঢোড়া সাপ বা বাটবাজ সাপ ইংরেজি নাম হচ্ছে Red-necked keelback এবং বৈজ্ঞানিক নাম Rhabdophis subminiatus এই Red necked keelback  সাপটি আসলে বিষধর তাই এদের Venomous বলা হয়ে থাকে। কিন্তু অন্যান্য অবিষধর সাপদের মত এই সাপকে একই Colubride Family তে রাখা হয়েছে।

বিষধর সাপের সাধারণত দুটি বিষদাঁত  (Fang ) থাকে। কিন্তু এদের কোন সুগঠিত বিষদাঁত নেই। সাপের শরীরে যেসব আইশ থাকে তাদের মধ্যে একটি আইশ হলো Loreal, যেটি সাধারণত বিষধর সাপেদের থাকে না । কিন্তু লাল গলা ঢোড়া সাপের এই আইশ আছে। এর শরীরের অন্যান্য আইশ বিন্যাসও অন্যান সাপেদের মতন। এর ফনা অনেকটা রাজ গোখরা (king Cobra) মত।  আরোও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এর ঘাড় হতে এক ধরনের বিষাক্ত তরল নিঃসৃত হয়, যা পতঙ্গ জাতীয় ছোট প্রানী মেরে ফেলতে সক্ষম এবং মানুষ সহ অন্যান্য প্রানীর জন্য ক্ষতিকারক।

এরা সাধারণত ডোবা বা নালার আশে পাশেই থাকতে পচ্ছন্দ করে। এদের খাদ্য তালিকায় ব্যাঙ ও মাছ রয়েছে। এদের বাংলাদেশের সব জায়গায়তেই কম বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া বহিঃবিশ্বে হংকং, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, লাওস, মায়ানমার, নেপাল ও উত্তর ভিয়েতনামে এদের দেখা যায়। এদের বিষের কার্যকারিতা কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত সাপের বিষ haemotoxic, neurotoxic, cytotoxic হয়ে থাকে। লাল গলা ঢোড়া সাপের বিষ এর কোনটা নয়। এর বিষ কিডনিকে অকার্যকর করে দিয়ে প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়।

যে কারণে আমাদের দেশে প্রচলিত যেসব এন্টিভেনম পাওয়া যায়, তা লাল-গলা ঢোড়া সাপের বিষকে প্রতিহত করতে পারে না। সহজ কথায় এর কোন এন্টিভেনম আমাদের দেশে নাই।  শুধুমাত্র জাপানে এই সাপের এন্টিভেনম পাওয়া যায়।

লিখেছেঃ কিরোন।

One Reply to “বিষধর সাপ লাল গলা ঢোড়া”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *