বিষাক্ত জেলিফিশ

নামের সাথে ফিশ কথাটি থাকলেও আসলে কিন্তু এরা মাছ নয়। প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন বছর ধরে জেলিফিশের বিচরণ এই গ্রহে। এরা মূলত লবণাক্ত পানিতেই বাস করে তবে ব্যাতিক্রমও আছে। জেলিফিশ ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে ১২০ ফুট পর্যন্ত বড় হতে পারে।সমুদ্রের ১২০০০ ফুট গভীরেও এরা বাস করে, আবার সমুদ্র পৃষ্ঠেও এদের দেখা যায়।

জেলিফিশের ব্রেইন, মেরুদণ্ড, হার্ট এসব কিছুই নেই। এরা শরীরের সাহায্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় শ্বাস নিয়ে থাকে। পৃথিবীর অনেক সমুদ্রেই এদের খোঁজ মিলে।তবে জেলিফিশের সৈকত নামে পরিচিত হচ্ছে Palau Island। সাগরতলে ঘুরে বেড়ানো এই প্রাণীগুলো যেমন সুন্দর, তেমনি অদ্ভুত। অনেকে এই প্রাণীটিকে রাখেন অ্যাকুরিয়ামের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য।

অনেক আবার প্রাকৃতিক পরিবেশেই এদের দেখতে ভালোবাসেন। কিন্তু আমাদের মোটামুটি পরিচিত, পাতলা স্বচ্ছ দেহের এই প্রাণীটির ব্যাপারে আসলে কতটুকু জানি আমরা ? আমরা যতটা মনে করি এরা কি ততটাই নিরীহ ? নাকি এই একঘেয়ে প্রাণীর মাঝেও লুকিয়ে আছে বিস্ময় ? সহজ সরল এই জেলিফিশ মাঝে মাঝে মারাত্মক প্রাণী হয়ে দাঁড়ায়।

অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ তার কর্ষিকার বিষ দ্বারা ৬০ জন মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম। জেলিফিশের সব প্রজাতি আবার বিষাক্ত নয় এদের কিছু কিছু প্রজাতি আছে যাদের কোন বিষ নেই।

আমরা মানুষেরা যতটা খাবার খাই তার পুরো শক্তিটাই কি ব্যবহার করতে পারি? বা একটা গাড়িকে যে পরিমাণে জ্বালানি খাওয়ানো হয় তার পুরোটাই কি কাজে লাগে? জেলিফিশ কিন্তু নিজের শরীরের শক্তি ব্যবহারে দারুন পারদর্শী।

চলাচলে অনেকটা শক্তি চলে যায় সব প্রাণীরই। আর জেলিফিশ চলে হলো একটু অন্যভাবে। নিজের শরীরটাকে গুটিয়ে নিয়ে পেছনের দিকে ধাক্কা দেয় আর তাতেই শরীর সামনে চলে যায়। মনে হতে পারে এভাবে ঘষে ঘষে চললে তো শক্তি আরও বেশি খরচ হবে।

কিন্তু না, এই প্রক্রিয়ায় জেলিফিশের পেছনে পানিতে তৈরি হয় একটা ঘূর্ণি যা তাকে ঠেলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এ কারণে শরীরের ১ শতাংশ পেশী নিয়েও দিব্যি চলতে পারে জেলিফিশ আর অন্যান্য প্রাণীর চাইতে অনেক কম শক্তি ব্যয় করতে হয় তার।

লিখেছেনঃ লোটাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *