ভয়ঙ্কর সেই লেকনেটরন রহস্য

অনেকের ধারনা, এই লেকের পানির ছোঁয়ায় সব পশুপাখি পাথর হয়ে যায়। লেক তো নয়, যেন রূপকথার দৈত্য। যে দৈত্যের স্পর্স পেলেই যেকোন প্রাণী পাথরে পরিনত হয়। আলোকচিত্রি রিক ব্র্যান্ডটের ক্যামেরায় পাথরের ফ্লামিঙ্গ,ঈগল,বাদুড়সহ আরও অনেক কিছুই ধরা পড়েছে যা দেখে অনেকের উৎসাহ আরো বেড়ে গিয়েছে।

আসলেই বাস্তবে কি ঘটে এই লেকে সেটা অনেকেরই অজানা। আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত তাঞ্জানিয়ার পাহাড়বেষ্টিত দুর্গম এলাকার একটি লেক হচ্ছে এই লেকনেটরন। মূলত এই লেকটির পানি এতটাই লবণাক্ত যে কিছু কিছু সংবেদনশীল প্রাণীর উপর এর চরম প্রভাব দেখা যায়। ছোট আকারের কিছু প্রাণীর ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে এই লেকের লবণাক্ত পানি। লেকটির পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে লেকটির পানি অত্যন্ত ক্ষারীয়।

এর pH এর পরিমাণ ৯.৫ থেকে ১০.৫ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে এর থেকেও বেশি হয়। এতো বেশি লবনাক্ততার উৎস মূলত সোডিয়াম কার্বনেট এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ। যা লেকের পানিতে আসে লেকটিকে বেষ্টন করে রাখা পাহাড়গুলো থেকে। বছরের পর বছর ধরে এভাবে সোডিয়াম কার্বনেট জমা হওয়ার ফলে লেকটি হয়ে উঠেছে সোডিয়াম কার্বনেট ও অন্যান্য খনিজের এক মহা ভাণ্ডার।

সোডিয়াম কার্বনেট এমন একটি খনিজ যা কিনা প্রাচীন মিসরীয় মমি তৈরির অন্যতম একটি উপাদান হিসেবে ব্যাবহার করা হত। আর এই কারণেই যখন এই লেক বা তার আশেপাশের এলাকায় কোন পাখি বা অন্যান্য প্রাণী মারা যায়, তখন তা এই খনিজের প্রভাবে অনেকটা অপরিবর্তিত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে বছরের পর বছর ধরে। তাছাড়া, নেটরন লেকটি বড় কোন নদী বা সাগরের সাথে মিলিত না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এর লবনাক্ততা অপরিবর্তিত রয়েছে। নেটরন লেকের লবনাক্ততা সত্ত্বেও লেকটি বাস্তুতন্ত্রের চমৎকার একটি উদাহরণ। প্রধানত ফ্লামিঙ্গ পাখিদেরই আধিক্য দেখা যায় লেকটিতে।

তাছাড়াও অনেক প্রজাতির পাখি ও বাদুড় রয়েছে লেকটিকে বেষ্টন করে রাখা পাহাড়গুলোতে। পাখিগুলো যখন তাদের জীবন পথের যাত্রা শেষ করে ফেলে, তখন অনেক সময় পাহাড় থেকে গড়িয়ে লেকের পানিতে গিয়ে জমা হয়। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় এদের মৃতদেহের গায়ে অনেক কাদামাটি জমা হয়। সেই সাথে লেকের পানি ও লবনাক্ততাও মিশ্রিত হয়। লেকের পাড়ে দিনের পর দিন থেকে শুকিয়ে যাবার পর এদের দেখলে মনে হয় রূপকথার জগত থেকে আগত পাথরের কোন মূর্তি। অথবা মনে হয় কোন শিল্পী পরম মমতায় এদের খোঁদাই করেছে পাথর কেটে।

লিখেছেনঃ শাহরিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *