মেগালোডন সার্ক রহস্য

পরিসংখ্যান বলছে পৃথিবীর সব সাগর এবং মহাসাগরের প্রায় ৯৫ শতাংশই এখনো রয়ে গিয়েছে লোকচক্ষুর আড়ালে, অজানা, অচেনা। জুরাসিক যুগের ডাইনোসরেরা আমাদের এই পৃথিবী থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে সম্পুর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে ডাইনোসর যুগের সামুদ্রিক প্রাণীরা টিকে ছিলো আরও অনেক বছর।

সামুদ্রিক প্রাণী হাঙরেরা এই পৃথিবীতে বসবাস করছে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে। এদের মধ্যেই এক প্রজাতির বিশালাকার দানব হাঙর ছিলো পৃথিবীতে। যাদের জীবাশ্ম খুজে পাবার পরে কার্বণ ডেটিং-এর পর পর্যালোচনা করে জানা যায় আজ থেকে ২৬ মিলিয়ন বছর আগেও এই পৃথিবীতে জীবিত ছিলো সেই বিশালাকার দানব হাঙর।

কিন্তু হঠাৎ করেই একদল বিজ্ঞানী ২০০৭ সালে দক্ষিন আমেরিকার পানামা সমুদ্র তীরে সেই বিশালাকার দানব হাঙরের বেশ কয়েকটি দাঁত খুজে পেয়েছেন। নতুন পাওয়া এই দাঁতগুলো পর্যালোচনা করে জানা যায় এই দাঁতগুলির বয়স মাত্র ১০ হাজার বছর।

এছাড়াও আরো নানা কারণে সম্প্রতি অনেক মেরিন সাইন্টিস্ট ধারনা করছেন ক্রেটাশিয়াস অধিযুগ বা জুরাসিক যুগের কিছু সামুদ্রিক প্রাণী হয়তো গভীর সমুদ্রের তলদেশে আজও জীবিত অবস্থায় রয়েছে, যাদের সম্পর্কে আমরা আজও জানিনা। বিজ্ঞানীরা এই বিশালাকার দানব হাঙরদের নাম দিয়েছেন মেগালোডন সার্ক – Megalodon Shark এই দানব হাঙরদের বৈজ্ঞানিক নাম Carcharodon megalodon

দুনিয়ার সকল রহস্যময় প্রাণীদের সম্বন্ধে আমরা প্রায়ই কোনো না কোনো কাহীনি শুনে থাকি যেটা মানুষ সত্য না মিথ্যা তা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে। এই রকমই সমুদ্রে থাকা একটি জীব এই বিশাল সার্ক প্রজাতির প্রাণী মেগালোডন MEGALODON  গবেষণায় জানা যায় এই বিশাল দানব ছিলো সমুদ্রে বাস করা সবথেকে বড়ো পরোভক্ষি প্রাণী, মেগালোডন সার্কেরা লম্বায় ছিল ৬০ ফুট।

বর্তমান সময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাঙর প্রজাতি হচ্ছে গ্রেট হোয়াইট সার্ক যারা লম্বায় ২০ ফুট হয়ে থাকে আকারের তূলনায় মেগালোডন ছিলো এদের থেকেও ৬ গুন বড়। কয়েক বছর ধরে বলা হচ্ছে যে এই বিশাল সামুদ্রিক দানব (MEGALODON) আজও বেঁচে আছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে এর পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে।

একদল বিজ্ঞানী জানান, একটি মেগালোডন সার্কের দৈনিক খাবার চাহিদা থাকে ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড তাই সমুদ্রের তলদেশের নিচে যদি অন্য কোন স্তরে তারা আটকে থাকে তাহলে এই বিপুল পরিমান খাবারের চাহিদা সেখানে পূরণ হবার কথা নয়। আরেকদল বিজ্ঞানী জানান সমুদ্রের তলদেশের নিচের কোন স্তরে পানির তাপমাত্রা বেশি, কারণ পৃথিবীর অভ্যান্তর থেকে তাপ এসে সেখানকার পানি গরম করে রাখে।

আর হাঙরেরা ঠান্ডা পানিতে থাকতে পারেনা তাই সমুদ্রের নিচের সেই স্তরের পরিবেশ এই মেগালোডন হাঙরদের জন্য উপযোগী। এই বিশালকায় প্রাণীর জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা আরও প্রমান পেয়েছেন আজ থেকে ২৬ লক্ষ বছর আগে এই প্রাণী পৃথিবীর সমুদ্রে রাজ করত। মেগালোডন সার্কের ১৮ মিটার বা ৬০ ফুট লম্বা আকৃতিই প্রমান করে যে এক সময় এটি সমুদ্রের সবথেকে ভয়ঙ্কর প্রাণী ছিল যাকে টক্কর দেওয়ার মত কোনো প্রাণী পৃথিবীতে ছিলোনা।

এরা তাদের ১০ ফুট চওড়া এবং ১২ ইঞ্চি লম্বা ২৭০ টি দাঁতের সাহায্যে বড়ো বড়ো সামুদ্রিক প্রাণীকে এক নিমেষেই ছিড়ে আলাদা করে ফেলতে পারত। আজকের দিনে সবচেয়ে বড়ো গ্রেট হোয়াইট সার্কের সাথে এদের তুলোনা করেই অনেকে ভয়ে আতৎকে উঠে। এক্সপার্টরা বলছেন যে এই বিশালকার দানব এখন পুরোপুরি লুপ্ত কিন্তু বিভিন্ন সামুদ্রিক ঘটনা থেকে অনেকেই দাবী করেন যে এই বিশালকার দানব আজও সমুদ্রের কোনো গভীরে লুকিয়ে আছে এবং মাঝে মাঝে উপরে ওঠে আসে।

লিখছেনঃ উজ্জ্বল হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *