রক্তচোষা জোঁক

রক্তচোষা জোঁক ও তাদের জাতভাইরা কেঁচোর মত এনিলিডা পর্বের জীব। এরা এনিলিডা পর্বের হিরুডিনিয়া উপপর্ব হয়ে থাকে। জোঁক কেঁচোর মত এদেরও ক্লাইটেলাম থাকে। আদিকাল থেকে রক্তচোষা জোঁকেদের রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ করার জন্য চিকিৎসায় ব্যবহার হয়েছে।

তাৎক্ষনিকভাবে রক্ত বন্ধ করার জন্য রক্তচোষা জোঁকের লালায় একপ্রকারের হিরুডিন নামক রক্ত জমাট রোধক (anticoagulant) পেপটাইড থাকে যা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় এগুলোকে খেউরা জোঁক বলে।

অঞ্চল ভেদে অনেকেই চীনা জোঁকও বলে থাকে। স্যাঁতসেতে ভিজেমাটি এদের পছন্দনীয় আবাস্থল। মাঝারি ও ছোট আকারের গবাদিপশুর রক্তশূন্যতার কারণ এই জোঁক। একটি ছোটবাচ্চাকে যদি তিন/চারটি জোঁক একত্রে ধরে, তবে সেই বাচ্চাটি রক্তশূন্যতার জন্য মারাও যেতে পারে।

বগুড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোতে এই জোঁক প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। গবাদি পশু ছাগল, গরু, দুম্বা বা ভেড়ার পায়ের খুর ও ঘাস খাওয়ার সময় নাকের ভেতরে ঢুকে পড়ে এগুলো।

ত্বকে ছিদ্র করে রক্ত শুষতে থাকে, যতক্ষন না এগুলোর পেট ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়ে নিজ থেকেই ঝরে না পড়ে যায় ততক্ষন রক্ত খেতে থাকে। এরা যেটুকু রক্ত খায় তাতে কোন সমস্যা হয়না।

কিন্তু রক্ত খেতে যে ছিদ্রটি করে, সেই ছিদ্র দিয়ে অনেকটা রক্ত বেরিয়ে যায়। গ্রামবাংলায় পশুপালনের বড় অন্তরায় এই রাবারসদৃশ প্রাণিটি। এদের উৎপত্তি স্থল হলো গণচীন। ধারনা করা হয়, অনেককাল পূর্বে কয়লার মাধ্যমে এই জোঁক বাংলাদেশে আসে।

দেহ থেকে জোঁক অপসারনের সবচেয়ে ভাল উপায় হল হাতের দুই আঙ্গুল ব্যবহার করে জোঁকের মুখের চোষক অংশের সিল ভেঙে দেওয়া। জোঁক অপসারনের জন্য সাধারণত এর গায়ে সিগারেটের ছ্যাকা, খাবার লবন, ভিনেগার, সাবান, ক্ষারীয় রাসায়নিক পদার্থ, লেবুর রস বা কিছু কার্বনেট পানীয় ব্যবহৃত হয়।

তবে এ সব পদ্ধতি চিকিৎসকরা ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। কারণ এসব ব্যবহার করলে জোঁক তার পাকস্থলীর সব কিছু বমি করে দেয়, যা কিনা মানব দেহের ক্ষতস্থানে রোগের সংক্রমণ করতে পারে। হাত দিয়ে টেনে জোঁক অপসারন করাও ঠিক নয়।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *