রহস্যময় লাংফিশ

বিজ্ঞানীদের মতে লাংফিশ এই পৃথিবীতে যুরাসিক যুগেরও আগে থেকে বাস করছে। সেই হিসাবে পৃথিবীতে লাংফিশদের বয়স ডাইনোসরদের থেকেও বেশি। আফ্রিকান লাংফিশ কোন প্রকার খাদ্য গ্রহন ছাড়াই পাঁচ বছর পর্যন্ত হাইবারনেশনে যেতে পারে। ধারণা করা হয় এই অবস্থায় লাংফিশ তাদের জৈবিক ঘড়িকে ধীর পর্যায়ে নিয়ে যায়।

দীর্ঘদিন এরা শক্তি সংরক্ষণের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারে। শুকনো মাটির নিচেও এদের বেঁচে থাকার তুমুল ক্ষমতা রয়েছে। এরা যখন প্রতিকূল পরিবেশের আন্দাজ করে বা পানি শুকিয়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতির সমুখীন হয় তখন এরা জলপথের ১ থেকে ৯ ইঞ্চি নীচে মাটি খনন করে।

তারপর দেহ দিয়ে আশেপাশের মাঠিকে আন্দোলিত করে একটি বাল্ব-আকৃতির চেম্বার তৈরি করে এবং উক্ত চেম্বারে লাংফিশ তার নাকের দিকটিকে ঊর্ধ্বমুখী করে অবস্থান নেয়। যখন পানি শুকিয়ে যায় তখন এরা মাটির নিচে এভাবেই অবস্থান করে এবং পুনরায় জলধারা না পাওয়া পর্যন্ত এভাবেই অপেক্ষা করতে থাকে।

এটি সম্ভব কারণ তারা বাইরের বাতাস থেকে তাদের ফুসফুস পূরণ করতে পারে, তাদের শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি করতে পারে। এমতাবস্থায় এদের বিপাকীয় হার ধীরে ধীরে খু্ব কমে যায় এবং বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি মাংসপেশির ভাঙ্গনের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। এরা এই অবস্থায় ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

আফ্রিকার লাংফিশ তাদের পেছনের পাতলা অঙ্গগুলিকে ব্যবহার করে প্রয়োজনের সময় নিজেদেরকে নীচ পৃষ্ঠ থেকে তুলে নিতে এবং নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে লাংফিশ পশুদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত যেগুলি বিবর্তিত এবং পানি থেকে এসে ডাঙ্গার উপর বেঁচে থাকে।

লিখেছেনঃ সুপ্রভাত সুইট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *