তাসমেনিয়ান ডেভিল বা তাসমেনিয়ার শয়তানেরা.

কোন প্রাণীর এরকম অদ্ভুত নাম হতে পারে তা শুনতে আশ্চর্য মনে হতে পারে। কিন্ত ইউরোপিয়ান সেটলাররা অস্ট্রেলিয়াতে যখন এই প্রাণীকে আবিষ্কার করে তখন এই প্রাণীটির বেখাপ্পা আচরণ এবং ভূতুড়ে ডাক শুনে তারা এই নামটিই দিয়ে বসে।  তাসমেনিয়ান ডেভিল  (Sarcophilus harrisii) হল এর আসল নাম।

এই  প্রাণী কে সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী থলিতে বহন কারী জীব হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। মানুষ প্রথমেই পরিচিত হয় এর পাগলাটে আচরণ দ্বারা। শিকারী পশুদের সাথে প্রচন্ডরকম ক্রোধ প্রদর্শন, মিলনের জন্য মহিলা ডেভিল কে দাতে দ্বারা কামড়িয়ে একরকম কিডন্যাপ করে নিয়ে আসা, এবং মিলনের জন্য অন্য পুরুষ ডেভিলের সাথে মারামারি করা, মহিলা ডেভিলের আবার পুরুষ ডেভিলের সাথে মিলন না করে পলায়ন করা ইত্যাদি কর্মকান্ড আপনাকে সত্যিকারার্থেই এক ঝগড়াটে এবং বেয়ারা জাতির কথা মনে করিয়ে দিবে।

অস্ট্রেলিয়ান এই প্রাণীর সাইজ ২০ থেকে ৩২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওজন নয় থেকে ছাব্বিশ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। এই প্রাণীর শরীরের তুলনায় তার মাথার সাইজ বড় যে কারণে এর রয়েছে তীক্ষ্ণ দাত এবং পেশিবহুল মাড়ি। এই মাড়ি দিয়ে যে কোন কিছু ভেঙ্গে গুড়ে খাওয়ার সক্ষমতা তাসমেনিয়ান ডেভিলের রয়েছে। এর কামড় কে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী কামড় হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এরা সাধারণত ছোট প্রাণী শিকার করতে অভ্যস্ত যেমনঃ সাপ, পাখি,মাছ, পোকামাকড় ইত্যাদি। রাত্রিকালীন এই জীবটি যখন কোন কিছু শিকার করে তখন কিছুই বাদ রাখে না তার পশম, নখ, দাত সবকিছু ভক্ষন করে নেয়।

একজন মা তাসমেনিয়ান ডেভিল ২০ থেকে ৩০ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। যেগুলো মায়ের থলির মধ্যেই থাকে। মায়ের নিপল মাত্র চারটা থাকার কারণে অল্প সংখ্যক বাচ্চাই টিকে থাকতে পারে।

একসময় এই জীবটি পুরো অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া গেলেও এখন শুধুমাত্র তাসমানিয়াতেই পাওয়া যায়। ১৯৯০ সাল থেকে এই প্রাণী এক ধরণের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়।  যার নাম দেওয়া হয় Devil facial tumor disease (DFTD). এই ক্যান্সারের কারণে ডেভিলের মুখ থেকে মাথা পর্যন্ত ফুলে যায়। তখন তাদের খাবার খেতে কষ্ট হয়। ধীরেধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।  একসময় মারা যায়। [১]

কিন্ত আশার ব্যাপার হল এই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব ইমিউনু সিস্টেম গড়ে উঠছে। যা সায়েন্টিস্টদের জন্য এই প্রাণীর ব্যাপারে আশার আলো দেখাচ্ছে। একটা সময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে এই প্রাণীটিকে আর টিকানো সম্ভব হবে না। কিন্ত এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। [২]

বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছে। তারা বের করেছে তাসমেনিয়ান ডেভিলের প্রাণঘাতী এই ক্যান্সারের প্রতিষেধক তাদের স্তন্যদুধের মধ্যেই রয়েছে। শুধুয়ামত্র তাই নয় এই দুধ মানুষের অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট বাগস এর সমাধানও এর মাঝে রয়েছে। তবে এর জন্য আমাদের আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। ভালো থাকুক মানুষ। ভালো থাকুক জগতের সব প্রাণীরা। [৩]

References:

[১]https://www.nationalgeographic.com/animals/mammals/t/tasmanian-devil/

[২]https://www.bbc.com/news/science-environment-47659640

[৩]https://www.theguardian.com/environment/2016/oct/18/tasmanian-devil-milk-could-kill-golden-staph-and-other-antibiotic-resistant-bugs

লিখেছেনঃ শাবুল্লাহ হক

কেমন আছে পাবলো এসকোবারের জলহস্তিরা?

জলহস্তির মূল আবাসস্থল আফ্রিকাতে। কিন্ত ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার ম্যাগডেলেনা নদীতে আপনি এর সন্ধান পাবেন। ১৯৮০ সালে ড্রাগ কিং পাবলো এসকোবার তার ব্যক্তিগত চিরিয়াখানার জন্য চারটি জলহস্তি আফ্রিকা থেকে স্মাগলিং করে নিয়ে আসে। কিন্ত ১৯৯৩ সালে পাবলো এসকোবারের মৃত্যুর পর তার এই চিরিয়াখানা থেকে জলহস্তি ছাড়া অন্যান্য সব প্রাণীই তারা সড়িয়ে নেয়। [১]

এই সুযোগে জলহস্তিরা তাদের মূল অবস্থান থেকে বের হয়ে কলম্বিয়ার মূল লোকালয় এবং স্থানীয় এলাকায় নিরাপদে আবাস শুরু করে। কিন্ত অসংখ্য কারণ, এখন কলম্বিয়ান গভমেন্ট এবং স্থানীয়দের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ হল, জলহস্তিদের মূল আবাসস্থল আফ্রিকাতে খরা এবং খাবারের অভাবের কারণে সেখানকার জলহস্তিদের সেক্সুয়ালি অ্যাক্টিভ হতে পুরুষ জলহস্তির জন্য সাত এবং মহিলা জলহস্তির জন্য নয় বছরের প্রয়োজন। কিন্ত কলম্বিয়াতে পর্যাপ্ত খাদ্য এবং কোন খরা বা পানির অভাব না থাকায় তিন বছরে এসেই এরা পূর্ণবয়স্ক হয়ে যায়। এবং এদের প্রতি বছরই এরা বাচ্চা দান করে। তাই কলম্বিয়াকে এক কথায় এই জলহস্তিদের জন্য স্বর্গ হিসেবে সাব্যস্ত করা যায়। [২]

সমস্যা হল, জলহস্তিরা স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর এবং বিপদজনক প্রাণী। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে আফ্রিকাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয় এই জলহস্তি দ্বারা। তাই এরকম একটা ভয়ানক প্রাণীর মানুষের মধ্যে চলাচল নিঃসন্দেহে ভীতিকর ব্যাপার। আর যেহেতু জলহস্তিদের মূল আবাসস্থল কলম্বিয়াতে নয় তাই অন্যান্য প্রাণীর উপরও এর প্রভাব ফেলছে। এবং স্থানীয় খামারিদের গৃহপালিত পশুর উপর নিয়মিত আক্রমণ করার ঘটনা ঘটছে।
পাবলো এসকোবারের রেখে যাওয়া চারটি জলহস্তি থেকে এখন কয়টাতে এসে পৌছিয়েছে সেই নির্দিষ্ট শুমারি না থাকলেও তা যে ষাটের কম নয় সে ব্যাপারে নিশ্চিত। এক স্থানের প্রাণী অন্যস্থানে নিয়ে এসে বংশবিস্তারের সুযোগ করে দিলে তা যে জীব বৈচিত্রের জন্য হুমকি বয়ে আনে তার আদর্শ প্রমাণ পাবলো এসকোবারের এই জলহস্তিরা।

Reference :

[১] https://www.nationalgeographic.com/animals/2018/09/colombia-cocaine-hippos-rewilding-experiment-news/

[২] https://www.bbc.com/news/magazine-27905743

[৩] https://www.cbsnews.com/news/pablo-escobars-hippos-keep-multiplying-and-colombia-doesnt-know-how-to-stop-it/

লিখেছেনঃ Muhammad Saowabullah

স্পিটিং কোবরা

Naja গোত্রীয় কিছু গোখরা সাপ আছে যারা কামড়ের থেকে বিষ ছুড়ে মারাকেই বেশি পছন্দ করে এদেরকে স্পিটিং কোবরা বলা হয়। এই কোবরাদের প্রধানত মধ্য এশিয়া এবং আফ্রিকাতে দেখতে পাওয়া যায়।

কম করে হলেও বিশ ধরণের এই সাপের প্রজাতি রয়েছে। বিষ দাতের গঠনের কারণেই মূলত এরা অন্য কোবরা সাপ থেকে আলাদা। তাদের বিষ দাতের গঠনই মূলত তাদেরকে বিষ নিক্ষেপ করার সক্ষমতা দান করে।

সায়েন্টিস্টরা এদের বিষ নিক্ষেপের উপর আলোকপাত করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এ সাপের মূল টার্গেট থাকে তার শত্রুর চোখ। চোখকে অন্ধ করে দেওয়াই মূলত এদের বিষ নিক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য থাকে।

এজন্য এদের সামনে যেতে হলে অবশ্যই গগল বা চশমা ব্যবহার করতে হবে। এই বিষ চোখ অন্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। সাপ কত স্পিডে বিষ নিক্ষেপ করতে সক্ষম তা নির্ভর করে সাপের দৈর্ঘ্যের উপর।

তবে যে স্পিডেই এটা নিক্ষেপ করুক না কেন তা মানুষের চোখে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। ৪ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত এরা নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এজাতীয় সাপের বিষে অনেক রকমফের রয়েছে। কিছু সাপ শুধুমাত্র কার্ডিওটক্সিন বহন করে।

আরো কিছু সাপ নিউরোটক্সিন, সাইটোটক্সিন, ফসফলিপেজ এবং কার্ডিওটক্সিনের সংকর বহন করে। কার্ডিওটক্সিন-কেই মূলত চোখের ক্ষতির কারণ হিসেবে ধরা হয়। এই সাপের মূল অবস্থান হল চিন,কম্বোডিয়া,থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে।

অনেকের ধারণা ভারতের কিছু মনোক্লেড কোবরা বিষ নিক্ষেপ করতে সক্ষম। কিন্ত এর সপক্ষে এখনো প্রমাণ মিলেনি।

তথ্যসুত্রঃ

[১] https://www.nationalgeographic.com/animals/2005/02/news-cobras-venom-eyes-perfect-aim/

[২]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4529546/

লিখেছেনঃ Saowabullah Haque

রক্তচোষা জোঁক

রক্তচোষা জোঁক ও তাদের জাতভাইরা কেঁচোর মত এনিলিডা পর্বের জীব। এরা এনিলিডা পর্বের হিরুডিনিয়া উপপর্ব হয়ে থাকে। জোঁক কেঁচোর মত এদেরও ক্লাইটেলাম থাকে। আদিকাল থেকে রক্তচোষা জোঁকেদের রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ করার জন্য চিকিৎসায় ব্যবহার হয়েছে।

তাৎক্ষনিকভাবে রক্ত বন্ধ করার জন্য রক্তচোষা জোঁকের লালায় একপ্রকারের হিরুডিন নামক রক্ত জমাট রোধক (anticoagulant) পেপটাইড থাকে যা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় এগুলোকে খেউরা জোঁক বলে।

অঞ্চল ভেদে অনেকেই চীনা জোঁকও বলে থাকে। স্যাঁতসেতে ভিজেমাটি এদের পছন্দনীয় আবাস্থল। মাঝারি ও ছোট আকারের গবাদিপশুর রক্তশূন্যতার কারণ এই জোঁক। একটি ছোটবাচ্চাকে যদি তিন/চারটি জোঁক একত্রে ধরে, তবে সেই বাচ্চাটি রক্তশূন্যতার জন্য মারাও যেতে পারে।

বগুড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোতে এই জোঁক প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। গবাদি পশু ছাগল, গরু, দুম্বা বা ভেড়ার পায়ের খুর ও ঘাস খাওয়ার সময় নাকের ভেতরে ঢুকে পড়ে এগুলো।

ত্বকে ছিদ্র করে রক্ত শুষতে থাকে, যতক্ষন না এগুলোর পেট ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়ে নিজ থেকেই ঝরে না পড়ে যায় ততক্ষন রক্ত খেতে থাকে। এরা যেটুকু রক্ত খায় তাতে কোন সমস্যা হয়না।

কিন্তু রক্ত খেতে যে ছিদ্রটি করে, সেই ছিদ্র দিয়ে অনেকটা রক্ত বেরিয়ে যায়। গ্রামবাংলায় পশুপালনের বড় অন্তরায় এই রাবারসদৃশ প্রাণিটি। এদের উৎপত্তি স্থল হলো গণচীন। ধারনা করা হয়, অনেককাল পূর্বে কয়লার মাধ্যমে এই জোঁক বাংলাদেশে আসে।

দেহ থেকে জোঁক অপসারনের সবচেয়ে ভাল উপায় হল হাতের দুই আঙ্গুল ব্যবহার করে জোঁকের মুখের চোষক অংশের সিল ভেঙে দেওয়া। জোঁক অপসারনের জন্য সাধারণত এর গায়ে সিগারেটের ছ্যাকা, খাবার লবন, ভিনেগার, সাবান, ক্ষারীয় রাসায়নিক পদার্থ, লেবুর রস বা কিছু কার্বনেট পানীয় ব্যবহৃত হয়।

তবে এ সব পদ্ধতি চিকিৎসকরা ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। কারণ এসব ব্যবহার করলে জোঁক তার পাকস্থলীর সব কিছু বমি করে দেয়, যা কিনা মানব দেহের ক্ষতস্থানে রোগের সংক্রমণ করতে পারে। হাত দিয়ে টেনে জোঁক অপসারন করাও ঠিক নয়।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড

বিশাল আকৃতির এই পাখিদের নাম গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড Great Indian bustard এদের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Ardeotis nigriceps  ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড হল এক ধরণের বড় প্রজাতির বাস্টার্ড পাখি, ভারতের রাজস্থানের আঞ্চলিক ভাষায়া একে গোডাওয়ান পাখি বলা হয়।

এরা প্রধানত ভারতে এবং ভারত সংলগ্ন পাকিস্তানে বাস করে। এক কথায় ভারতীয় উপমহাদেশে এদের দেখা যায়। আয়তনে বিশাল, শরীরটা অনুভূমিক, দীর্ঘ পা ও গ্রীবা যুক্ত। এই পাখিটি দেখতে অনেকটা অস্ট্রিচ বা উটপাখির মতো।

উচ্চতায় এরা তিন ফুট ছাড়িয়ে যায়। যখন ডানা মেলে আকাশে উড়ে তখন দুই ডানা ৮ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত হয়। উড়ন্ত পাখিদের মধ্যে সম্ভবত সব থেকে বড় এবং ভারী পাখি এটি। ২০১১ সালের পাখি শুমারি অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের শুষ্ক সমভূমিতে খুবই অল্প সংখ্যক মাত্র ২৫০ টি পাখি দেখা গিয়েছিল।

২০১৮ সালের গননাতে দেখা যাচ্ছে বাসস্থান হ্রাস, শিকারিদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য হ্রাসের ফলে এই পাখির সংখ্যা কেবলমাত্র ১৫০ এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে আইইউসিএন দ্বারা এই পাখি মহাবিপন্ন বলে চিহ্নিত হয়েছে।

এই পাখি ও কৃষ্ণসার হরিণদের সাধারণত একই স্থানে দেখা যেত। এরা ১৯৭২ সালের ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে সুরক্ষিত।

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ : Animal ia পর্ব : Chordata শ্রেণী: Aves বর্গ : Otidiformes পরিবার : Otididae গণ : Ardeotis প্রজাতি : A. nigriceps দ্বিপদী নাম Ardeotis nigriceps।

সোর্স: উইকিপিডিয়া

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

বামন দুমুখো সাপ

এরা হচ্ছে অতি ক্ষুদ্রাকার এক প্রকারের অন্ধ সাপ। এদের দৈর্ঘ্য সচরাচর ১০.০ থেকে ১২.৫ সেমি ও সর্বোচ্চ ২৩.০ সেমি হয়ে থাকে। এদের নবজাতক প্রায় ৫ সেমি হয়। দেখতে অনেকটা কেঁচোর মত হলেও নলাকার দেহটি খন্ডবিশিষ্ট নয়।

এদের দেহের পুরোটাই ঘনসন্নিবিষ্ট চকচকে আঁশে আবৃত থাকে। বাংলাতে এদেরকে বামন দুমুখো সাপ বা দুমোখো সাপ বলা হলেও। ইংরেজিতে কিন্তু এদের অনেক নাম রয়েছে যেমন, Brahminy Blind Snake, common blind snake, brahminy worm snake.

এদের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Ramphotyphlops braminus এটি মূলত Typhlopidae পরিবারের অন্তর্ভূক্ত একটি প্রাণী। বামন দুমোখো সাপের দেহের উপরের দিক লালচে বাদামি আর নিচের দিক হালকা বাদামি।

এদের মাথা ঘাড় থেকে পৃথক নয়। সরু ক্ষুদ্র চোখগুলো কালো ফোটার মতো। এদের লেজের আগাটি চোখা হয়ে থাকে। এরা সচরাচর মাটির নিচে বসবাস করে উইপোকা ও পিপড়ার ডিম ও লার্ভা খায়।

আদ্রবন, বাগান,কৃষিজমি মানুষের আবাসেও এদের পাওয়া যায়। সবচেয়ে মজার কথা এরা একলিঙ্গিক তাও প্রত্যেকেই স্ত্রী। পুরুষ ছাড়াই বংশবিস্তার করে থাকে এই সাপ। উর্বর ডিম পাড়ে ৩ থেকে ৭টি করে।

তা থেকে কেবল স্ত্রী বাচ্চাই জন্ম নেয়। বাচ্চাদের সাথে মায়ের খুব একটা পার্থক্য থাকে না। প্রায় হুবুহু একি দেখতে হয়ে থাকে মা এবং সন্তানেরা। একে অপরের ক্লোন বলা যায় বা বলতে পারেন নিজেকেই আবার নিজে জন্ম দেয়।

দেশব্যাপি এই সাপের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে। এরা সচরাচর দৃশ্যমান, ভারি বৃষ্টিপাতের পর মাটিতে গড়াতে দেখা যায়। এরা সম্পূর্ণ রুপে অবিষধর বা নির্বিষ সাপ। একান্ত প্রয়োজন ও আক্রমনাত্মক প্রাণঘাতি বিষধর সাপের আক্রমণ না হলে সাপ মারা থেকে বিরত থাকুন।

বিষধর হোক বা নির্বিষ এদের দেখলে চলে যেতে দিন। সাপ অত্যন্ত ভিত ও নিরিহ দুর্বল একটি প্রাণী। পালানোর রাস্তা না পেলে তবেই এরা কামড়াতে আসে তাছাড়া নয়। ওদের তাড়িয়ে দিন বা দুরে সরে গিয়ে বন বিভাগের সহায়তা নিন। প্রকৃতির প্রত্যেকটি প্রাণীই মানব জীবনের জন্য মঙ্গল জনক।

লিখেছেনঃ  Iftiker Mahamud

আফ্রিকার বিষধর সা

এদের নাম ব্লাক মাম্বা বা  কালো মাম্বা  এরা হচ্ছে (Dendroaspis polylepis) এলাপিড পরিবারভুক্ত এক প্রজাতির বিষধর সাপ। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়ংকর সাপ।

আফ্রিকার একটি বড় অঞ্চলজুড়ে এই সাপের বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। কালো মাম্বা দেখা যায় ইথিওপিয়া, কেনিয়া, বতসোয়ানা, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, মালাউই, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, এবং কঙ্গোতে।

এছাড়া সাভানা অঞ্চল, কাষ্ঠল বণাঞ্চল, এবং শিলাময় অঞ্চলে এদের দেখা যায়। এরা নিজেরা হুমকির সম্মুখীন হলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মারণঘাতী দংশন করতে দ্বিধা করে না।
আকৃতির দিক থেকে কালো মাম্বা আফ্রিকার সর্ব বৃহৎ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিষধর সাপ হিসেবে চিহ্নিত।

একটি পূর্ণ বয়স্ক কালো মাম্বার দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ২.৫ মিটার এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৩ মিটার হয়ে থাকে। কালো মাম্বা থেকে বড় পৃথিবীর একমাত্র প্রজাতির বিষধর সাপটির নাম শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা,যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাপ।

আর বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া এই সাপটির অন্যতম একটি এন্ডেমিক বাসস্থান হচ্ছে সুন্দরবন। অন্যান্য সরীসৃপের মতোই কালো মাম্বা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাহ্যিক তাপের ওপর নির্ভরশীল।

কালো মাম্বা নামটি একটি ভুল পথ নির্দেশনামূলক কারণ, সাপটির ত্বকের সত্যিকারের রং কালো নয়, বরং গাঢ় ধূসর জলপাই রংয়ের। যদিও জীবনের প্রথমভাগে এটিও থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সাপের ত্বকের রং গাঢ় হতে থাকে।

এদের নামের সাথে কালো বা কালো যুক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় এদের কুচকুচে কালো মুখকে। এদের মুখের ভেতরটা পুরোটা গাঢ় কালো রংয়ের। কালো মাম্বা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী সাপ হিসেবেও চিহ্নিত।

দাবী করা হয় এদের কিছু প্রজাতি ঘন্টায় ১৯.৫ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে পারে।
আফ্রিকা মহাদেশে এই সাপের প্রাদুর্ভাব এতো বেশী যে, হসপিটালে কোনো রোগি ভর্তি হলে প্রথমে ব্লাক মাম্বার এন্টি ভেনম দেওয়া হয়।

আমাদের বাস্তুসংস্থানে প্রত্যেকটা প্রানীর ভূমিকাই অপরিসীম,সুতরাং নিজেদের টিকে থাকার তাগিদে, জীবন সংশয় না হলে কোনো বন্য প্রানী হত্যা করবেন না, পারলে এদের বেঁচে থাকতে সহযোগিতা করুন।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া + অন্যান্য গ্রহন যোগ্য মাধ্যম।

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

বিচিত্র একটি গ্রাম টিলটেপেক

মধ্য আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে অবস্থিত এটি। গ্রামটির চারপাশ ঘন অরণ্যে ঘেরা। তবে খবরের শিরোনামে গ্রামটির কথা উঠে এসেছে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে। মেক্সিকোর একটি সংবাদমাধ্যম বলছে, টিলটেপেক গ্রামটির সব মানুষ ও পশুই অন্ধ! তিন শতাধিক জাপোটেক নামের জাতির মানুষ বাস করে এই গ্রামে।

জানা গেছে, তাদের প্রত্যেকেই অন্ধ। শুধু মানুষই নয়, গ্রামের গৃহপালিত পশুগুলোও দৃষ্টিশক্তিহীন। বিষয়টি এমন নয় যে, গ্রামের অধিবাসীরা সবাই জন্মগত অন্ধ। এই গ্রামে জন্ম নেয়া নবজাতকরা আর পাঁচটা নবজাতকের মতোই সুস্থ-সবল অবস্থাতেই জন্মায়। কিন্তু এক সপ্তাহ পরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে তারা।

বিষয়টি খবরে আসার পর বেশ ভাবিয়েছে মেক্সিকো প্রশাসন ও বিজ্ঞানীদের। এর কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন তারা। এ বিষয়ে গ্রামবাসীর দাবি, লাবজুয়েলা নামে একটি গাছই তাদের এই অন্ধত্বের পেছনে দায়ী। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, অভিশপ্ত ওই লাবজুয়েলা গাছই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়। লাবজুয়েলা গাছটি নিয়ে ইতিমধ্যে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু গ্রামবাসীর এমন অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছেন তারা। ওই গাছের সঙ্গে তাদের দৃষ্টিহীনতার কোনো সম্পর্কই নেই। তা হলে কেন এভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন জাপোটেকরা? অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে বিজ্ঞানীদের সামনে।

তারা দেখেন যে ঘন অরণ্য গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে সেখানে বসবাস রয়েছে ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ নামের এক প্রজাতির বিষাক্ত মাছির। টিলটেপেক গ্রামে মাছিটির অবাধ বিচরণ রয়েছে। এই বিষাক্ত মাছির কামড়ে জীবাণু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

যার ফলেই শিশু থেকে বুড়ো এবং পশুরাও ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানীদের এমন তথ্যে নড়েচড়ে বসে মেক্সিকো সরকার। অঞ্চলটি মানুষের বসবাসের অযোগ্য জানিয়ে গ্রামবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ নেয় মেক্সিকো প্রশাসন।

কিন্তু অদ্ভুত কারণে টিলটেপেক গ্রাম ছেড়ে কোথাও যেতে রাজি হচ্ছেন না গ্রামবাসী। এক মায়ার জাদুতে অন্ধত্বকেই বরণ করে নিতে রাজি তারা। তা ছাড়া মাছির কামড়ে তারা অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন বিষয়টিও মেনে নিচ্ছেন না গ্রামবাসীর অনেকেই। তবে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে মেক্সিকো সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সোর্স: দৈনিক যুগান্তর ১৯/৯/২০১৯

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

মুম্বাইয়ের রাস্তার রাতের অতিথিরা

রাতের আধারে রাস্তায় শিয়াল, কুকুর নেমে আসা আমাদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্ত মুম্বাইবাসীর জন্য রাত হলে রাস্তাতে শুধুমাত্র শিয়াল, কুকুরই নেমে আসে না এর সাথে সাথে চলে আসে শিকারী চিতা বাঘ।

মুম্বাইয়ের রাস্তায় রাত হলেই চিতা বাঘের আনাগোনা একইসাথে যেরকম ভীতিকর তদ্রুপ মুম্বাই বাসীর জন্য কল্যাণকর ব্যাপারও বটে।

এই বাঘগুলো মূলত আসে সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক থেকে। রাত হলেই এরা দেয়াল পেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। নির্দিষ্ট প্রাণী শিকার করার পর আবার তারা তাদের যথাস্থানে ফেরত চলে যায়।

তবে আশার বিষয় হল এই চিতাবাঘের দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুব অল্পই ঘটেছে কেননা এরা মূলত মুম্বাইয়ের রাস্তাতে আসে কুকুর শিকার করতে। কুকুরের পাশাপাশি মানুষের পালা শূকর, মুরগি ইত্যাদি তারা শিকার করে থাকে।

মুম্বাইবাসীর জন্য রাতের বেলা কুকুর এক ভীতিকর প্রাণী হিসেবে দেখা দিয়েছে। কম করে হলেও এখানে ৯৫,০০০ কুকুর আছে। প্রতি বছর প্রায় ৭৫,০০০ কুকুর দ্বারা মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। গত বিশ বছরে কম করে হলেও চারশত বিশ জন র‍্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। লেওপার্ড বা চিতা বাঘের ডায়েটের ৪০% হল এই কুকুরের মাংস। অর্থাৎ কুকুর শিকার করে এরা মুম্বাইয়ের অধিবাসীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দান করছে।

রাত হলে মানুষের মাঝে চিতাবাঘের এই আগমন প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের বায়োডায়ভার্সিটির ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। [১]

তথ্যসুত্রঃ
১) https://www.theguardian.com/cities/2018/mar/23/mumbai-leopards-stray-dogs-protect-sanjay-gandhi-national-park
.
২) https://www.theguardian.com/cities/2014/nov/26/leopards-mumbai-life-death-living-ghosts-sgnp
.
৩) https://www.nationalgeographic.com/news/2018/03/mumbai-leopards-sanjay-gandhi-national-park-stray-dogs-rabies-spd/
.

৪) https://www.vice.com/en_asia/article/wjmdnb/sanjay-ghandi-national-park-leopards-urban-jungle

লিখেছেনঃ Saowabullah Haque

দাঁড়াশ সাপ / Rat snake

দাঁড়াশ সাপ (English: Rat snake) Colubridae গোত্রের বিষহীন সাপ Coluber mucosus। এদের দেহের রং হালকা বাদামি বা হলুদ বাদামি কিংবা জলপাই বাদামি। সাপটিকে গোখরা সাপ বলে ভ্রম হতে পারে।

এ কারণে সাপটি মানুষের হাতে বেশি মারাও পড়ে। এদের মাথায় সাধারণত কোনো ফণা থাকে না এবং মাথা গোখরা সাপের মাথার তুলনায় বেশ সরু। লম্বায় সাধারণত দুই মিটার, তবে কোনো কোনোটি তিন মিটার বা ততোধিক লম্বা হতে পারে।

দাঁড়াশ সাপ গাছ বেয়ে উঠতে দক্ষ, সাঁতার কাটতে, ডুব দিয়ে থাকতে এবং দ্রুত ছুটতে পারে। ধরা পড়ার পর কিছুটা মারমুখি দেখালেও পরে খুব সহজেই পোষ মেনে যায়। ইঁদুর, ছুঁচো, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে দাঁড়াশ সাপ জীবনধারণ করে।

শিকার ধরামাত্রই গিলতে শুরু করে। দাঁড়াশ সাপ। বিভিন্ন অঞ্চলে কেবল এ সাপই ‘যুদ্ধ নাচ’ (combat dance) দেখায়। প্রতিদ্বন্দতী দুটি পুরুষ সাপের মধ্যে এ লড়াইয়ে এরা পরস্পর দেহের অর্ধেক রশির মতো পেঁচিয়ে মাটির সমান্তরালে অথবা কিছুটা উপরে থাকে।

গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ একে গোখরা ও দাঁড়াশের মধ্যে যৌনমিলনের দৃশ্য মনে করে। দাঁড়াশ প্রায় এক ডজন আঠালো ডিম পাড়ে এবং দুই মাসের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।স্ত্রী সাপ প্রায় দু’মাস ডিমের চারপাশে কুন্ডলী পাকিয়ে অবস্থান করে।

দাঁড়াশের লেজের কাটা;;কুসংস্কার আছে যে দাঁড়াশ সাপের লেজে কাটা থাকে, আর সেই কাটা শরীরে ফুটলে পচঁন ধরে। কিন্তু মূলত দাঁড়াশের লেজে কোনো কাটা থাকে না, যে টা দেখা যায় সেটা মূলত হোমো পেনিস, সব সাপেরই দুটি করে হোমোপেনিস থাকে, মেটিংয়ের সময় বা খুব বেশী আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেগুলো বেড়িয়ে আসে আর দাড়াশের হোমো পেনিস অপেক্ষাকৃত বড় হয় বলে চোখে পরে, আর মানুষজন সেটা দেখে কুসংস্কার ছড়ায়।

এদের চামড়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কোরিয়ান ও চীনারা দাঁড়াশ সাপের মাংস খেতে পছন্দ করে। (বিঃদ্রঃ জীবন সংশয় না হলে কোনো বন্যপ্রানী মারবেন না কারন আমাদের ইকোসিস্টেমে বন্যপ্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম। একটি সুন্দর আর নির্মল পৃথিবী রক্ষার্থে বন্যপ্রান রক্ষা করুন।) সোর্স;বাংলাপিডিয়া

তথ্যসুত্রঃ বাংলাপিডিয়া

লিখেছেনঃ Tariqul Islam Roni

ডোরাকাটা হায়েনা

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ হতে অসংখ্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভৌগোলিকভাবে ভারতের অনেক প্রানীরই অবস্থান বাংলাদেশেও থাকার কথা ছিল। কিন্ত পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং সংরক্ষণের অভাবে অনেক প্রাণী বাংলাদেশ হতে বিলুপ্ত হলেও ভারতে এখনো অনেক প্রাণীর অস্তিত্বই টিকে আছে।

এদের মধ্যে অন্যতম একটা প্রাণী হল হায়েনা । এই উপমহাদেশে ডোরাকাটা হায়েনা (Striped hyena) বিদ্যমান। উনিশ শতকের শেষের দিকেও এই হায়েনার দেখা মিলত রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকায়। কিন্ত এটা এখন বাংলাদেশ হতে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে [১]। একে
ভারতের ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে  “হুঁড়রা” নামে ডাকা হয়।

কিন্ত ইন্ডিয়া, নেপাল, আফগানিস্তান সহ অনেক অঞ্চলে এই হায়েনা এখনো দেখতে পাওয়া যায়।। গ্লোবালি মিলিয়ে ডোরাকাটা হায়েনার  সংখ্যা হবে ৫,০০০ এর মত। কয়েক বছর পূর্বেও যার সংখ্যা ছিল ১৪,০০০ এর মত। IUCN একে প্রায় বিপদগ্রস্ত শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করে ( Near threatened)।

বনভূমি উজাড়, বায়োডায়ভার্সেটি ধ্বংস, এদের ব্যাপারে ভুল ধারণা রাখা এছাড়াও এদেরকে শিয়ালের সাথে মিলিয়ে ফেলা ইত্যাদি কারণে এদের জীবন হুমকির মুখে। [২]

ইন্ডিয়ার রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরাঞ্চল, মধ্যে প্রদেশের মান্দলা প্রদেশ সহ আরো কয়েকটা স্থানে এদের দেখা মিলবে। বেশিরভাগেরই অবস্থান রিসার্ভ সেন্টার সংশ্লিষ্ট বনাঞ্চলে। [৩]

ডোরাকাটা হায়েনা ওজন ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। উচ্চতা চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটা ডোরাকাটা হায়েনা সাধারণত দশ থেকে বার  বছর পর্যন্ত বাচে।  এই ডোরাকাটা হায়েনা মূলত রাত্রীকালীন জীব। সারা রাত এরা খাদ্য খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। অন্য হায়েনাদের মত এরা এলাকাভিত্তিক নয়। মারামারির সময় এরা অন্যদের ঘাড় এবং পায়ে আক্রমণ করে। ডোরাকাটা হায়েনা নিজস্ব গর্ত খুড়ে থাকে। শীত, বৃষ্টিতে এরা গুহায় অথবা লম্বা ঘাসে আশ্রয় নেয়।

খাদ্য চক্রের এই এক অসাধারণ প্রাণীর অস্তিত্ব আমরা আমাদের ভূমি হতে হারিয়ে ফেলেছি। এটা আমাদেরই বায়োডায়ভার্সেটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। যা আমাদের নিজেদের পক্ষ হতে আর কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।

তথ্যসুত্রঃ

১) https://www.thedailystar.net/environment/wild-life/the-extinct-species-bangladesh-132847

২) https://www.thehindu.com/sci-tech/energy-and-environment/an-initiative-to-save-the-striped-hyenas-of-india/article26446129.

৩) https://www.indianmirror.com/wildlife/animals/striped-hyena.html

লিখেছেনঃ Saowabullah Haque

স স্কেলড ভাইপার

ভয়ানক ছোট সাপ স স্কেলড ভাইপার (saw-scaled viper) । এর বৈজ্ঞানিক নাম (Echis carniatus)। ইন্ডিয়ার বিগ ফোর স্নেকের অন্তর্ভুক্ত একটি সাপ। বিগ ফোর বানানো হয়েছে ঐ সাপদের নিয়ে যে সাপের কামড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারতে মারা যায়।

এই সাপের বিশেষত্ব হল এই সাপ ছোট হওয়ার কারণে একে খুজে বা চিহ্নিত করা মুশকিল। আর সবসময় হিংস্র বা রাগত অবস্থায় থাকে। একটা অ্যাডাল্ট সাপের দৈর্ঘ্য ০.৩ থেকে ০.৯ মিটার (১থেকে ৩ ফুট) হয়ে থাকে ।

কোন বিপদ টের পেলে এই সাপ  শরীরের আশগুলোকে একসাথে রাউন্ড করে ঘুরাতে থাকে তা একটার সাথে আরেকটার ঘর্ষণের দ্বারা সৃষ্টি হয় অদ্ভুত এক শব্দের সৃষ্টি করে। এটাকে অনেকেই সাপের পক্ষ থেকে এক ধরণের সতর্ক সংকেত ধরে নেওয়া হয়। এর ক্ষীপ্র গতির কামড় অপ্রস্তত কারো পক্ষে এড়ানো অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার।

এই সাপের বিষ বিষাক্ততার দিক দিয়ে যদিও অন্যান্য সাপের থেকে পিছিয়ে কিন্ত এই বিষের পর্যায়ক্রমিক কার্যক্রমই মূলত মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। আরেকটা কারণ হল এই সাপের অবস্থান জনবহুল এলাকাতে।  যে কারণে সহজেই মানুষ এর স্পর্শের আওতায় চলে আসে।

এই সাপের কামড়ের ফলে কামড়ানোর স্থানের আশপাশের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও হাত বা পায়ের আঙ্গুল কিংবা পুরো অঙ্গ হারিয়ে ফেলে ।  এই নির্দিষ্ট সাপের কামড়ে প্রতি বছর ভারতে কত লোক নিহত হয় সেই হিসেব নেই। কিন্ত সাপের কামড়ে নিহত হওয়া লোকের বড় একটা অংশ যে এই সাপের দ্বারাই আক্রান্ত হয় সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

তবে আশার কথা হল, এই সাপ কে আফ্রিকা, মিডল ইস্ট পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, এবং শ্রীলঙ্কা তে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এই সাপের কোন অবস্থান নেই।

তথ্যসুত্রঃ

১) https://www.britannica.com/animal/saw-scaled-viper

২)https://www.nationalgeographic.com/science/phenomena/2016/04/19/why-some-snakebites-are-so-destructive/

লিখেছেনঃ Saowabullah Haque